পুরাতন কাচের বোতল রং করে ঘর সাজানোর ৫টি আইডিয়া
পুরাতন কাচের বোতল ফেলে না দিয়ে ঘর সাজানোর কাজে ব্যবহার করুন। জেনে নিন কাচের
বোতল রং করে সাজানোর ৫টি সহজ ও সুন্দর আইডিয়া। কম খরচে কীভাবে পুরোনো বোতলকে
আকর্ষণীয় ফুলদানিতে রূপ দেবেন তা জানুন। ফুল, পাতা, দড়ি ও রঙ ব্যবহার করে তৈরি
করুন নিজের পছন্দের ডিজাইন। ঘরের কোন জায়গায় রঙ করা কাচের বোতল রাখলে বেশি
সুন্দর দেখাবে তাও জানুন।
সহজ DIY পদ্ধতিতে পুরোনো জিনিসকে নতুন রূপ দেওয়ার কৌশল শিখুন। ঘর সাজানোর
পাশাপাশি পুরোনো কাচের বোতল পুনর্ব্যবহারের দারুণ কিছু উপায় জানুন। পুরাতন
কাচের বোতল রং করে ঘর সাজানোর ৫টি আইডিয়া বিস্তারিত জানতে পড়ুন পুরো
আর্টিকেলটি।
সুচিপত্রঃ পুরাতন কাচের বোতল রং করে ঘর সাজানোর ৫টি আইডিয়া
- পুরাতন কাচের বোতল রং করে ঘর সাজানোর ৫টি আইডিয়া
- পুরোনো কাচের বোতল দিয়ে ঘর সাজানোর সুবিধা
- কাচের বোতল রং করার আগে যেসব জিনিস প্রয়োজন
- বোতল পরিষ্কার ও রং করার সঠিক প্রস্তুতি
- আইডিয়া এক: এক রঙে কাচের বোতলকে ফুলদানিতে রূপ দিন
- আইডিয়া দুই: দুই রঙের বোতলে আধুনিক ডিজাইন
- আইডিয়া তিন: ফুল ও পাতার নকশায় বোতল সাজান
- আইডিয়া চার: রং ও জুটের দড়ি দিয়ে ন্যাচারাল লুক
- আইডিয়া পাঁচ: রঙিন বোতলের ভেতরে LED আলো
- কোন রঙের বোতল কোন ঘরে বেশি সুন্দর দেখাবে?
- কোথায় রাখলে রঙ করা বোতল বেশি সুন্দর দেখাবে?
- পুরোনো বোতল সাজানোর সময় সতর্কতা ও শেষ কথা
পুরাতন কাচের বোতল রং করে ঘর সাজানোর ৫টি আইডিয়া
ঘর সুন্দর করে সাজাতে অনেকেই নতুন নতুন শোপিস, ফুলদানি কিংবা ডেকোরেশন সামগ্রী
কিনতে চান। কিন্তু একটু সৃজনশীলভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে, আমাদের ঘরেই এমন
অনেক পুরোনো জিনিস রয়েছে যেগুলো সামান্য পরিবর্তন করেই নতুনভাবে ব্যবহার করা
সম্ভব। এর মধ্যে পুরোনো কাচের বোতল অন্যতম। সাধারণত পানীয়, জুস বা অন্যান্য
পণ্যের খালি কাচের বোতল ব্যবহার শেষে আমরা ফেলে দিই। অথচ এগুলো পরিষ্কার করে রং
ও নকশা করলে খুব সহজেই আকর্ষণীয় ঘর সাজানোর সামগ্রীতে পরিণত করা যায়।
বর্তমানে DIY বা নিজের হাতে তৈরি করা ডেকোরেশন সামগ্রীর প্রতি মানুষের আগ্রহ
বাড়ছে। এর অন্যতম কারণ হলো কম খরচে নিজের পছন্দ অনুযায়ী কিছু তৈরি করা যায়।
বাজার থেকে কেনা শোপিসের তুলনায় নিজের হাতে তৈরি করা জিনিসের আলাদা একটি
অনুভূতি থাকে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসে এই কাজটি করলে সময়ও ভালো কাটে।
পুরাতন কাচের বোতল রং করে ঘর সাজানোর ৫টি আইডিয়া অনুসরণ করে আপনি খুব সহজেই
পুরোনো বোতলকে নতুন রূপ দিতে পারেন। ফুলদানি, টেবিল ডেকোরেশন, LED লাইটের পাত্র
কিংবা সাধারণ শোপিস হিসেবে এসব বোতল ব্যবহার করা যায়। শুধু রং করার ধরন এবং
সাজানোর পদ্ধতি একটু পরিবর্তন করলেই একই বোতলকে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।
এই আর্টিকেলে আমরা জানব কীভাবে পুরোনো কাচের বোতল প্রস্তুত করতে হয়, কোন ধরনের
রং ব্যবহার করা যায়, পাঁচটি সহজ সাজানোর আইডিয়া এবং কোন জায়গায় রাখলে এগুলো
দেখতে বেশি সুন্দর লাগবে।
পুরোনো কাচের বোতল দিয়ে ঘর সাজানোর সুবিধা
পুরোনো কাচের বোতল দিয়ে ঘর সাজানোর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এতে খরচ খুব কম হয়।
একটি খালি বোতল সাধারণত আমাদের ঘরেই পাওয়া যায়। শুধু রং, ব্রাশ এবং প্রয়োজনীয়
কিছু সাজানোর উপকরণ কিনলেই কাজ শুরু করা যায়।
এতে পুরোনো জিনিস পুনর্ব্যবহার করা হয়। ফলে অপ্রয়োজনীয় কাচের বোতল সরাসরি ফেলে
না দিয়ে নতুন কাজে ব্যবহার করা সম্ভব। এটি পরিবেশের জন্যও ভালো একটি অভ্যাস।
পাশাপাশি নিজের সৃজনশীলতা প্রকাশ করার সুযোগ পাওয়া যায়।
একই ধরনের কয়েকটি বোতল থাকলে সেগুলোকে একই রঙে সাজিয়ে একটি সেট তৈরি করা যায়।
আবার ভিন্ন আকারের বোতলে ভিন্ন রং ব্যবহার করে ঘরের কোনো একটি কোণকে আকর্ষণীয়
করে তোলা সম্ভব।
আরেকটি বিষয় হলো, নিজের ঘরের দেয়াল, পর্দা, সোফা বা অন্যান্য আসবাবের রঙের
সঙ্গে মিলিয়ে বোতলের রং নির্বাচন করা যায়। ফলে ডেকোরেশনটি ঘরের সামগ্রিক
পরিবেশের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানিয়ে যায়।
কাচের বোতল রং করার আগে যেসব জিনিস প্রয়োজন
কাজ শুরু করার আগে প্রয়োজনীয় উপকরণগুলো সংগ্রহ করে রাখা ভালো। এতে কাজের
মাঝখানে বারবার উঠে অন্য কিছু খুঁজতে হয় না।
প্রথমে প্রয়োজন কয়েকটি পুরোনো কাচের বোতল। বোতলের আকার এক রকম হলেও সমস্যা নেই।
বরং বিভিন্ন আকারের বোতল ব্যবহার করলে সাজানোর সময় বৈচিত্র্য পাওয়া যায়।
এরপর প্রয়োজন কাচের উপযোগী রং। অ্যাক্রিলিক পেইন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে।
প্রয়োজন অনুযায়ী সাদা, কালো, নীল, সবুজ, হলুদ, গোলাপি কিংবা অন্য কোনো রং বেছে
নেওয়া যায়। কয়েক ধরনের রং মিশিয়েও নতুন শেড তৈরি করা সম্ভব।
আরো পড়ুনঃ ১২ হাজার টাকায় ১০ টি ব্যবসার আইডিয়া
এ ছাড়া বিভিন্ন আকারের ব্রাশ, স্পঞ্জ, পুরোনো কাপড়, পানি, খবরের কাগজ, পেন্সিল
ও প্রয়োজন হলে টেপ রাখা যেতে পারে। ফুল বা পাতার নকশা করতে চাইলে ছোট ব্রাশ
বেশি কাজে লাগে।
বোতলের গলায় সাজানোর জন্য রিবন, জুটের দড়ি, পুঁতি বা কৃত্রিম পাতা ব্যবহার করা
যায়। LED লাইট ব্যবহার করতে চাইলে নিরাপদ ব্যাটারিচালিত LED ফেয়ারি লাইট বেছে
নেওয়া ভালো।
বোতল পরিষ্কার ও রং করার সঠিক প্রস্তুতি
রং করার আগে বোতল ভালোভাবে পরিষ্কার করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি।
বোতলের গায়ে ধুলো, তেল, আঠা বা অন্য কোনো ময়লা থাকলে রং ভালোভাবে বসবে না।
প্রথমে বোতলটি সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। বোতলের ভেতরে যদি কোনো তরল
বা গন্ধ থেকে থাকে, সেটিও পরিষ্কার করতে হবে। এরপর একটি শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে
বোতলটিকে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিতে হবে।
বোতল শুকিয়ে যাওয়ার পর কোথায় কী ধরনের ডিজাইন করবেন তা আগে থেকে ঠিক করুন।
প্রথমবার কাজ করলে খুব জটিল ডিজাইন না করাই ভালো। সহজ ফুল, পাতা, লাইন বা
জ্যামিতিক নকশা দিয়ে শুরু করা যায়। রং করার সময় বোতলের নিচে খবরের কাগজ বিছিয়ে
নিন। এতে টেবিল বা মেঝেতে রং পড়ে গেলেও পরিষ্কার করা সহজ হবে।
একবারে বেশি রং দেওয়ার পরিবর্তে পাতলা করে কয়েকটি স্তর দেওয়া ভালো। একটি স্তর
শুকানোর পর প্রয়োজন হলে দ্বিতীয় স্তর দিতে পারেন। এতে বোতলের গায়ে রং
তুলনামূলকভাবে সমানভাবে বসবে।
আইডিয়া এক: এক রঙে কাচের বোতলকে ফুলদানিতে রূপ দিন
সবচেয়ে সহজ এবং সুন্দর পদ্ধতি হলো একটি পুরোনো কাচের বোতলকে এক রঙে রাঙিয়ে
ফুলদানি হিসেবে ব্যবহার করা। যারা প্রথমবার DIY ডেকোরেশন তৈরি করতে যাচ্ছেন,
তারা এই পদ্ধতি দিয়ে শুরু করতে পারেন।
প্রথমে বোতলের আকার অনুযায়ী একটি সুন্দর রং নির্বাচন করুন। ঘরের সাজ যদি হালকা
হয়, তাহলে নীল, সবুজ, গোলাপি বা হলুদ ব্যবহার করা যায়। আবার ঘর যদি আগে থেকেই
অনেক রঙিন হয়, তাহলে সাদা, ক্রিম বা কালো রং ব্যবহার করলে সুন্দর ভারসাম্য তৈরি
হতে পারে।
বোতলটি পুরোপুরি রং করে শুকিয়ে নিন। এরপর বোতলের গলায় একটি ছোট রিবন বা জুটের
দড়ি বাঁধতে পারেন। এতে সাধারণ বোতলটিও দেখতে অনেক বেশি আকর্ষণীয় হবে। তারপর
বোতলের মধ্যে তাজা ফুল, শুকনো ফুল অথবা কৃত্রিম ফুল রাখা যায়। ডাইনিং টেবিল,
পড়ার টেবিল, ড্রয়িংরুমের সাইড টেবিল বা জানালার পাশে এটি রাখা যেতে পারে।
পুরাতন কাচের বোতল রং করে ঘর সাজানোর ৫টি আইডিয়া -এর মধ্যে এটি সবচেয়ে সহজ একটি
পদ্ধতি। কম সময় এবং কম উপকরণেই সুন্দর ফল পাওয়া যায়।
আইডিয়া দুই: দুই রঙের বোতলে আধুনিক ডিজাইন
একটি বোতলে দুই বা তিনটি রং ব্যবহার করলে সেটিকে আরও আধুনিক দেখাতে পারে। এজন্য
প্রথমে একটি বেস কালার দিতে হবে। রং শুকিয়ে গেলে টেপ ব্যবহার করে বোতলের
নির্দিষ্ট অংশ আলাদা করে দ্বিতীয় রং দেওয়া যায়। উদাহরণ হিসেবে পুরো বোতল সাদা
করে মাঝখানে কালো বা সবুজ রঙের একটি অংশ রাখা যায়। আবার বোতলের নিচের অংশ গাঢ়
এবং উপরের অংশ হালকা রঙে সাজানো যায়।
জ্যামিতিক ডিজাইনও বেশ আকর্ষণীয় হতে পারে। সরল লাইন, ত্রিভুজ, বর্গ বা ছোট ছোট
ডট দিয়ে বোতল সাজানো যায়। ডিজাইন করার সময় খুব বেশি রং ব্যবহার না করাই ভালো।
দুই বা তিনটি রঙের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে অনেক সময় দেখতে বেশি পরিপাটি লাগে। এই
ধরনের বোতল ফুল ছাড়া খালি অবস্থাতেও শোপিস হিসেবে ব্যবহার করা যায়। বইয়ের তাক
বা টিভি ইউনিটের পাশে রাখলে এটি ঘরের সাজে নতুনত্ব আনতে পারে।
আইডিয়া তিন: ফুল ও পাতার নকশায় বোতল সাজান
ফুল ও পাতার নকশা সবসময়ই ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে জনপ্রিয়। পুরোনো কাচের বোতলেও খুব
সহজে এই ধরনের নকশা করা যায়। প্রথমে একটি হালকা রঙের বেস দিন। সাদা বা ক্রিম
রঙের ওপর সবুজ পাতা এবং লাল, হলুদ বা গোলাপি ফুলের নকশা সুন্দরভাবে ফুটে উঠতে
পারে। নিজে হাতে আঁকতে পারলে ছোট ব্রাশ দিয়ে ফুল ও পাতার নকশা আঁকুন। আঁকার
অভিজ্ঞতা না থাকলে স্টেনসিল ব্যবহার করতে পারেন। একটি বোতলে একই ফুলের নকশা
বারবার করা যায়। আবার কয়েকটি বোতল থাকলে প্রতিটিতে আলাদা ফুল আঁকা যায়।
যেমন একটি বোতলে সূর্যমুখী, অন্যটিতে ছোট সাদা ফুল এবং আরেকটিতে লাল ফুলের নকশা
করা যেতে পারে। এরপর তিনটি বোতল একসঙ্গে সাজালে একটি সুন্দর ডেকোরেশন সেট তৈরি
হবে। এই পদ্ধতিতে নিজের শিল্পীসত্তা প্রকাশ করার সুযোগ রয়েছে। নিখুঁত ছবি আঁকতে
না পারলেও সমস্যা নেই। সাধারণ নকশাও সুন্দরভাবে রং করলে আকর্ষণীয় দেখাতে পারে।
আইডিয়া চার: রং ও জুটের দড়ি দিয়ে ন্যাচারাল লুক
যারা একটু ন্যাচারাল বা গ্রামবাংলার মতো সাধারণ সাজ পছন্দ করেন, তাদের জন্য
জুটের দড়ি দিয়ে বোতল সাজানোর পদ্ধতিটি ভালো হতে পারে। প্রথমে বোতলের নিচের অংশে
হালকা সবুজ, সাদা, বাদামি বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক রং ব্যবহার করা যায়। রং
শুকিয়ে গেলে বোতলের গলার অংশে জুটের দড়ি পেঁচিয়ে দিতে পারেন।
চাইলে বোতলের সঙ্গে ছোট কাঠের টুকরা, কৃত্রিম পাতা বা ছোট একটি রিবন লাগানো
যায়। এতে বোতলটির মধ্যে হাতে তৈরি করা একটি বিশেষ অনুভূতি থাকবে। বারান্দা,
জানালার পাশে, বইয়ের তাক কিংবা ড্রয়িংরুমের কোনো কোণে এ ধরনের বোতল রাখা যায়।
কয়েকটি বোতল একই ডিজাইনে সাজালে একটি ছোট ডেকোরেশন কর্নার তৈরি করা সম্ভব।
পুরাতন কাচের বোতল রং করে ঘর সাজানোর ৫টি আইডিয়া -এর এই পদ্ধতিটি বিশেষভাবে
আকর্ষণীয় কারণ এতে রং এবং প্রাকৃতিক উপকরণের সমন্বয় ঘটে।
আইডিয়া পাঁচ: রঙিন বোতলের ভেতরে LED আলো
পুরোনো কাচের বোতলকে রাতের ডেকোরেশন হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। এজন্য বোতলের
ভেতরে ছোট ব্যাটারিচালিত LED ফেয়ারি লাইট ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রথমে বোতলের
বাইরের অংশ পছন্দমতো রং করে নিন। চাইলে পুরো বোতল রং না করে কিছু অংশ স্বচ্ছ
রাখা যায়। এতে আলো বাইরে থেকে সুন্দরভাবে দেখা যাবে।
নীল, বেগুনি বা গাঢ় রঙের বোতলের ভেতরে ছোট LED লাইট দিলে রাতে সুন্দর একটি
পরিবেশ তৈরি হতে পারে। আবার হালকা রঙের বোতলে নরম আলো ব্যবহার করলে ঘরে শান্ত
ধরনের আবহ তৈরি করা যায়। এগুলো টেবিল, শেলফ বা ঘরের কোনো সাজানো কোণে রাখা যায়।
বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান বা ছোট আয়োজনের সময়ও ব্যবহার করা সম্ভব।
তবে আলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দিতে হবে। তাপ তৈরি করতে পারে
এমন মোমবাতি বা অন্য কোনো উৎসের পরিবর্তে নিরাপদ LED আলো ব্যবহার করাই ভালো।
কোন রঙের বোতল কোন ঘরে বেশি সুন্দর দেখাবে?
বোতলের রং নির্বাচনের সময় ঘরের অন্যান্য রঙের সঙ্গে মিল রাখলে সাজটি আরও সুন্দর
হয়। সাদা দেয়ালের ঘরে গাঢ় নীল, সবুজ, কালো বা হলুদ বোতল ভালো কনট্রাস্ট তৈরি
করতে পারে। বেডরুমের জন্য নরম রং যেমন হালকা গোলাপি, ক্রিম, সাদা বা হালকা নীল
ব্যবহার করা যায়। এতে ঘরের পরিবেশ তুলনামূলকভাবে শান্ত দেখাতে পারে।
ড্রয়িংরুমে একটু উজ্জ্বল রং ব্যবহার করা যায়। হলুদ, গাঢ় সবুজ, নীল বা লাল রঙের
ডিজাইন সেখানে চোখে পড়ার মতো সাজ তৈরি করতে পারে। রান্নাঘর বা ডাইনিং স্পেসে
সবুজ, হলুদ কিংবা সাদা রঙের বোতল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট
নিয়ম নেই। আপনার নিজের পছন্দ এবং ঘরের সামগ্রিক রঙের সঙ্গে মিলিয়ে সিদ্ধান্ত
নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।
কোথায় রাখলে রঙ করা বোতল বেশি সুন্দর দেখাবে?
বোতল তৈরি করার পর সঠিক জায়গায় রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দর একটি DIY বোতল
এমন জায়গায় রাখা উচিত যেখানে সেটি সহজেই চোখে পড়ে। ড্রয়িংরুমের সাইড টেবিল,
টিভি ইউনিট, বইয়ের তাক, ডাইনিং টেবিল কিংবা জানালার পাশে রাখা যেতে পারে।
কয়েকটি বোতল একসঙ্গে রাখলে সবগুলো একই উচ্চতার না হয়ে বিভিন্ন উচ্চতার হলে
দেখতে বেশি আকর্ষণীয় হতে পারে।
একটি বড় বোতলের পাশে দুটি ছোট বোতল রাখা যায়। একই রঙের তিনটি বোতল পাশাপাশি
রাখলেও সুন্দর একটি সেট তৈরি হবে। বারান্দায় রাখলে অতিরিক্ত রোদ ও বৃষ্টির
বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। দীর্ঘ সময় সরাসরি রোদে থাকলে কিছু রঙের উজ্জ্বলতা কমে
যেতে পারে।
পুরাতন কাচের বোতল রং করে ঘর সাজানোর ৫টি আইডিয়া থেকে তৈরি সাজসামগ্রীকে এমন
জায়গায় রাখুন যেখানে ঘরের আলো পড়ে এবং বোতলের ডিজাইন স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
পুরোনো বোতল সাজানোর সময় সতর্কতা ও শেষ কথা
পুরোনো কাচের বোতল দিয়ে কাজ করার সময় কয়েকটি বিষয়ে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।
বোতলে কোনো ফাটল বা ভাঙা অংশ থাকলে সেটি ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ ভাঙা কাচ
হাতে আঘাত করতে পারে। রং করার সময় ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকা
ভালো। শিশুদের সঙ্গে কাজ করলে বড়দের তত্ত্বাবধান থাকা উচিত। রং ও অন্যান্য
উপকরণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পণ্যের নির্দেশনা অনুসরণ করা দরকার।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কাজটিকে কঠিন মনে করার কোনো কারণ নেই। প্রথমবার
হয়তো আপনার ডিজাইন একদম নিখুঁত হবে না। কিন্তু কয়েকবার চেষ্টা করলে নিজের মতো
করে সুন্দর বোতল সাজানোর দক্ষতা তৈরি হয়ে যাবে।
পুরাতন কাচের বোতল রং করে ঘর সাজানোর ৫টি আইডিয়া- শুধু ঘর সাজানোর একটি পদ্ধতি
নয়, বরং পুরোনো জিনিসকে নতুনভাবে ব্যবহার করার একটি সৃজনশীল উপায়। একটি সাধারণ
কাচের বোতলও একটু রং, কিছু নকশা এবং সামান্য যত্নে ঘরের আকর্ষণীয় ডেকোরেশন হয়ে
উঠতে পারে।
তাই ঘরে থাকা পুরোনো কাচের বোতল ফেলে দেওয়ার আগে একবার ভেবে দেখুন। হয়তো সেটিই
আপনার ঘরের জন্য একটি সুন্দর ফুলদানি, শোপিস অথবা আলো সাজানোর পাত্র হতে পারে।
নিজের পছন্দের রং ও ডিজাইন ব্যবহার করে তৈরি করা এসব জিনিস ঘরের সৌন্দর্য
বাড়ানোর পাশাপাশি আপনার সৃজনশীলতারও পরিচয় দেবে।
কম খরচে ঘর সাজাতে চাইলে এই DIY পদ্ধতিটি অবশ্যই চেষ্টা করে দেখতে পারেন।
প্রয়োজন শুধু একটি পুরোনো বোতল, কিছু রং, সামান্য সময় এবং নিজের
সৃজনশীলতা।

দাম হান্ট এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url